সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪০ অপরাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ায় লালমনিরহাটের ৭ পরীক্ষাথীর ফল অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার(৩ এপ্রিল) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগি পরীক্ষার্থীরা।
অভিযোগে জানা গেছে, গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে অকৃতকার্য করা পরীক্ষার্থীরা পুনরায় ২০১৭ সালের সিলেবাস অনুযায়ী বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন। এর মধ্যে লালমনিরহাট সরকারী কলেজের ৪জন ও আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ৩ জন পরীক্ষার্থী শুধু বাংলা বিষয়ে অংশ নেন।
সোমবার(২ এপ্রিল) এ ৭জন পরীক্ষার্থী লালমনিরহাট মজিদা খাতুন সরকারী মহিলা কলেজ কেন্দ্র বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। কেন্দ্রে পরীক্ষা শুরু হলে তাদেরকে ২০১৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্ন প্রদান করা হয়। প্রথম দিকে কেন্দ্র সচিবকে বিষয়টি অবগত করলে তাদের চাপে এ প্রশ্নেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন পরীক্ষার্থীরা।
পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে অন্য কেন্দ্রের সহপাঠীদের মাধ্যমে জানতে পারেন অন্যসব কেন্দ্রে ২০১৭ সালের সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছে। পরে তারা বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষ ও জেলা প্রশাসককে মোবাইলে অবগত করে প্রতিকার দাবি করেন।
মঙ্গলবার(৩ এপ্রিল) বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় এসব পরীক্ষার্থীকে ২০১৭ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন দেয়া হয়। পরীক্ষা শেষে ৭ পরীক্ষার্থী এ ভুলের প্রতিকার চেয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ ও ২০১৭/১৮ সালের সিলেবাসে প্রশ্নেœর মানবন্টনে ভিন্নতা রয়েছে। ২০১৬ সালের সিলেবাসে নৈবত্তিক ৪০ ও রচনামুলক ৬০ এবং ২০১৭/১৮ সালের সিলেবাসে নৈবক্তিক ৩০ ও রচনামুলক ৭০ নম্বর। প্রশ্নœ যাই হোক ফলাফলে প্রশ্নেœর মানবন্টনে তাদের সমস্যা হওয়ার সম্ববনা রয়েছে বলে পরীক্ষার্থীরা দাবি করেন।
পরীক্ষার্থী আল আমিন ও হাবিবুল্লাহ ডেইলী বাংলাদেশকে জানান, খাতা মুল্যায়নের সময় প্রশ্নের মানবন্টনে তাদের ফলাফলে সমস্যা হতে পারে। তাই প্রথমেই ভুল প্রশ্নের প্রতিবাদ জানান। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। কেন্দ্র সচিব বলেছিলেন এটা কাউকে বলার দরকার নাই। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের সাথে কথা বলে ঠিক করা হবে। কিন্তু তা কতোটুকু সম্ভব তা নিয়ে তাদের শ্বংসয় রয়েছে বলে দাবি করেন পরীক্ষার্থীরা।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ ডেইলী বাংলাদেশকে জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর কেন্দ্র সচিব ও কলেজ অধ্যক্ষের সাথে কথা বলা হয়েছে। তারা বলেছেন প্রশ্ন একই তাই সমস্যা হবে না। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।